হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও যেকোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে হাম গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে।
হামের লক্ষণ
হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণত সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে দেখা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে:
- উচ্চমাত্রার জ্বর
- সর্দি ও কাশি
- চোখ লাল হওয়া
- গলা ব্যথা
- শরীরে লালচে ফুসকুড়ি
- দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা
হাম থেকে বাঁচার উপায়
১. টিকা গ্রহণ
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা নেওয়া। শিশুদের নির্ধারিত বয়সে এমএমআর (MMR) টিকা প্রদান করা উচিত।
২. আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা
পরিবার বা আশপাশে কেউ হাম আক্রান্ত হলে তার কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন।
৩. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা
নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করা এবং বাসস্থান পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।
৪. পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
ভিটামিন এ, সি এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৫. কাশি ও হাঁচির শিষ্টাচার মেনে চলা
হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখা উচিত, যাতে ভাইরাস ছড়িয়ে না পড়ে।
হাম হলে করণীয়
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
- প্রচুর পানি পান করুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন।
- আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন।
- জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ বাড়লে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
উপসংহার
হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে হামের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
0 Comments